মুখ্য সমাচার :
সতর্কবার্তা! যুবসাথী প্রকল্পের টাকা পেতে আবেদনপত্রে এই তথ্যগুলি ঠিক আছে তো? নারীর পরিচয় কি শুধু সমাজের দেওয়া নাম? নিরাপত্তার সন্ধানে নারী: শহরের আলো–ছায়ার গল্প ও আলোর পথযাত্রী গাড়ি আটকের পর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বদলি সার্জেন্ট, পুলিশ মহলে চাঞ্চল্য ও জল্পনা

দোলের দিনেই দুই জেলায় রহস্যের খোঁজ

দোলপূর্ণিমার উৎসবের আনন্দের মাঝেই মালদহের গাজোল ও দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাটে দুটি অদ্ভুত ঘটনার জেরে তুমুল চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। একদিকে পুকুর খননের সময় মাটির তলা থেকে উঠে এসেছে প্রাচীন এক বিষ্ণুমূর্তি, অন্যদিকে নদীর ধারে বালুর স্তূপ সরাতেই দেখা মিলেছে রহস্যময় এক পুরনো সিঁড়ির। দোলের দিনেই এই দুই ঘটনাকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে কৌতূহল, বিস্ময় ও নানা জল্পনা ছড়িয়ে পড়েছে দুই জেলাতেই।
Pressman
06 March, 2026


মালদহ জেলার গাজোল ব্লকের একটি গ্রামে কয়েকদিন ধরেই পুকুর খোঁড়ার কাজ চলছিল। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, গ্রামে জলসংকট মেটাতে নতুন পুকুর তৈরির জন্য মাটি কাটার কাজ শুরু হয়। সেই সময় আচমকাই শ্রমিকদের কোদালে শক্ত কোনও কিছুর আঘাত লাগে। প্রথমে বিষয়টি গুরুত্ব না দিলেও পরে মাটি সরাতে গিয়েই চোখে পড়ে একটি পাথরের তৈরি মূর্তি। ধীরে ধীরে মাটি পরিষ্কার করতেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে এটি বিষ্ণুর একটি মূর্তি। খবর ছড়িয়ে পড়তেই মুহূর্তের মধ্যে গ্রামজুড়ে ভিড় জমে যায়। বহু মানুষ ছুটে এসে মূর্তিটি দেখতে শুরু করেন। কেউ কেউ মূর্তিটির সামনে ধূপধুনো জ্বালিয়ে প্রণামও করতে থাকেন। অনেকের মতে, এটি বহু শতাব্দী পুরনো হতে পারে এবং সম্ভবত কোনও প্রাচীন মন্দির বা ধর্মীয় স্থাপনার অংশ ছিল।
স্থানীয় প্রবীণ বাসিন্দাদের দাবি, বহু বছর আগে এই এলাকায় একটি পুরনো মন্দির ছিল বলে কথিত আছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই মন্দির বিলুপ্ত হয়ে যায় বা মাটির নীচে চাপা পড়ে যায়। তাই এই মূর্তির আবিষ্কার সেই ইতিহাসেরই ইঙ্গিত হতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে। খবর পেয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে মূর্তিটি সুরক্ষিত রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং প্রত্নতত্ত্ব বিশেষজ্ঞদের বিষয়টি জানানো হয়েছে বলেও জানা গিয়েছে। মূর্তিটির বয়স, ঐতিহাসিক গুরুত্ব এবং উৎস সম্পর্কে খতিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
অন্যদিকে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বালুরঘাটেও একই দিনে ঘটেছে আরেক রহস্যময় আবিষ্কার। দোলের সকালে আত্রেয়ী নদীর ধারে কিছু স্থানীয় মানুষ বালু সরানোর কাজ করছিলেন। সেই সময় হঠাৎই তাদের নজরে আসে মাটির নীচে চাপা পড়ে থাকা ইটের তৈরি একাধিক ধাপ। ধীরে ধীরে বালু সরাতেই দেখা যায় একটি পুরনো সিঁড়ির কাঠামো। সিঁড়িগুলি বেশ মজবুত ইট দিয়ে তৈরি এবং দেখতে অনেকটাই প্রাচীন বলে মনে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। খবর ছড়িয়ে পড়তেই আশপাশের এলাকা থেকে বহু মানুষ সেখানে ভিড় জমাতে শুরু করেন।
স্থানীয়দের মধ্যে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা। কেউ মনে করছেন এটি হয়তো কোনও প্রাচীন ঘাটের অংশ, আবার কেউ বলছেন নদীর ধারে কোনও পুরনো মন্দির বা স্থাপনার সিঁড়ি হতে পারে এটি। অনেকেই দাবি করছেন, বহু বছর আগে আত্রেয়ী নদীর গতিপথ ও তীরবর্তী এলাকার গঠন অনেকটাই আলাদা ছিল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নদীর গতিপথ বদলানো ও বালুর স্তর জমার ফলে এমন কোনও পুরনো স্থাপনা মাটির নীচে চাপা পড়ে যেতে পারে।
দোলপূর্ণিমার দিনে এমন দুই ঘটনার জেরে এলাকায় উৎসবের আবহের মধ্যেই বাড়তি উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। গাজোল ও বালুরঘাট—দুই জায়গাতেই সকাল থেকেই কৌতূহলী মানুষের ভিড় লেগে রয়েছে। অনেকেই এটিকে ধর্মীয় বা শুভ লক্ষণ বলেও ব্যাখ্যা করছেন। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সতর্কতা অবলম্বন করে বিষয়টি বৈজ্ঞানিকভাবে পরীক্ষা করার কথা বলা হয়েছে। প্রত্নতাত্ত্বিক দপ্তরের বিশেষজ্ঞরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দেখবেন মূর্তি ও সিঁড়ির ঐতিহাসিক গুরুত্ব রয়েছে কি না।
এই দুই আবিষ্কার আপাতত রহস্যই বাড়িয়েছে। সত্যিই কি কোনও প্রাচীন ইতিহাস লুকিয়ে রয়েছে মাটির নীচে, নাকি এটি শুধুই কাকতালীয় ঘটনা—তা জানতে এখন বিশেষজ্ঞদের রিপোর্টের অপেক্ষায় স্থানীয় মানুষ। তবে দোলপূর্ণিমার দিনেই এমন চাঞ্চল্যকর আবিষ্কার দুই জেলার মানুষকে বিস্মিত করেছে এবং ইতিমধ্যেই এই ঘটনাকে ঘিরে চর্চা শুরু হয়েছে বিভিন্ন মহলে।
Follow Us ই-পেপার