ফলে সকাল গড়াতেই কয়েক কিলোমিটার জুড়ে তীব্র যানজট তৈরি হয়; আটকে পড়ে দূরপাল্লার বাস, অফিসগামীদের গাড়ি, এমনকি জরুরি পরিষেবার যানও।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, চলতি মরশুমে আলুর উৎপাদন ভাল হলেও বাজারে পাইকারি দর আচমকা তলানিতে ঠেকেছে। অনেক জায়গায় কুইন্টালপ্রতি যে দাম মিলছে, তা বীজ, সার, কীটনাশক, সেচ ও শ্রমিকের খরচও তুলতে পারছে না। উপরন্তু হিমঘরে সংরক্ষণের ভাড়া বেড়েছে বলে দাবি তাঁদের। একাধিক চাষির বক্তব্য, ব্যাংক ঋণ ও ব্যক্তিগত ধার শোধ করাই এখন দুঃসাধ্য হয়ে উঠেছে। অবিলম্বে ন্যূনতম সহায়ক মূল্য ঘোষণা, সরকারি এজেন্সির মাধ্যমে সরাসরি ক্রয় এবং হিমঘর ভাড়ায় ভর্তুকির দাবি তোলেন তাঁরা।
অবরোধের জেরে শিল্পাঞ্চলমুখী পণ্যবাহী ট্রাকের লাইন দীর্ঘ হতে থাকে। স্থানীয় ব্যবসায়ী মহলও উদ্বেগ প্রকাশ করে জানায়, দীর্ঘক্ষণ সড়ক বন্ধ থাকলে সরবরাহ ব্যবস্থায় বড়সড় প্রভাব পড়বে। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিশাল পুলিশবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। প্রথমে প্রশাসনের তরফে আলোচনার প্রস্তাব দেওয়া হলেও বিক্ষোভকারীদের একাংশের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডা চড়ে ওঠে। অভিযোগ, রাস্তা ফাঁকা করতে গেলে ধস্তাধস্তি শুরু হয় এবং ইটবৃষ্টি হয়। পাল্টা লাঠিচার্জের অভিযোগ ওঠে পুলিশের বিরুদ্ধে। সংঘর্ষে কয়েকজন চাষি ও পুলিশকর্মী আহত হন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে।
পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠলে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয় এবং ঘণ্টাখানেক পর ধাপে ধাপে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়। তবে আন্দোলনকারীরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, দাবিদাওয়া দ্রুত মানা না হলে তাঁরা বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটবেন এবং জেলার একাধিক সড়কে একযোগে অবরোধ গড়ে তুলবেন। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কৃষকদের সমস্যার বিষয়টি উচ্চমহলে পাঠানো হয়েছে এবং বাজার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
আলুর দরপতনকে কেন্দ্র করে গ্রামীণ অর্থনীতিতে যে চাপ তৈরি হয়েছে, তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে এই বিক্ষোভে। কৃষক মহলের দাবি, অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার নিতে পারে।