বসন্ত এলেই পশ্চিমাঞ্চলের লালমাটির দেশে যেন আগুন লেগে যায়—তবে সে আগুন ধ্বংসের নয়, রঙের। বিষ্ণুপুরের কাছাকাছি বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে ফুটেছে পলাশ, আর সেই আগুনরাঙা ফুলে সেজে উঠেছে বনভূমি ও গ্রামবাংলার পথঘাট। শহরের কোলাহল থেকে কয়েক ঘণ্টার দূরত্বে এমন দৃশ্য দেখতে ভিড় জমাচ্ছেন ভ্রমণপিপাসুরা। বিশেষ করে সপ্তাহান্তে পর্যটকদের আনাগোনা বেড়েছে চোখে পড়ার মতো।
স্থানীয়দের মতে, ফেব্রুয়ারির শেষ থেকে মার্চের মাঝামাঝি—এই সময়টাই পলাশ দেখার সেরা মরসুম।
বিষ্ণুপুরের ঐতিহাসিক মন্দিরনগরীর টেরাকোটা ঐতিহ্যের পাশাপাশি এখন নতুন আকর্ষণ হয়ে উঠেছে এই পলাশ বন। লাল মাটির রাস্তা, শুকনো পাতার কার্পেট আর তার মাঝখানে জ্বলন্ত কমলা-লাল ফুলের সারি—ফটোগ্রাফারদের জন্য যেন স্বর্গ। অনেকে ভোরবেলা বা বিকেলের নরম আলোয় ছবি তুলতে আসছেন। সোশ্যাল মিডিয়াতেও ভাইরাল হচ্ছে এই অরণ্যের নানা দৃশ্য।
পর্যটকদের সুবিধার জন্য আশপাশের গ্রামগুলোতে গড়ে উঠেছে একাধিক হোমস্টে। স্থানীয় পরিবারগুলিই অতিথিদের জন্য ঘর, দেশি খাবার ও গ্রামীণ অভিজ্ঞতার ব্যবস্থা করছেন। অল্প খরচে দু’দিনের শান্ত নিরিবিলি কাটাতে চাইলে এই হোমস্টেগুলিই ভরসা। অনেক জায়গায় আগাম বুকিং ছাড়া ঘর পাওয়া মুশকিল হয়ে পড়ছে, বিশেষত ছুটির দিনে। স্থানীয়দের দাবি, এই মৌসুমে পর্যটন বাড়ায় গ্রামের অর্থনীতিতেও গতি এসেছে।
যাতায়াতের ক্ষেত্রেও সুবিধা রয়েছে। কলকাতা থেকে ট্রেনে বা সড়কপথে সহজেই পৌঁছে যাওয়া যায় বিষ্ণুপুরে। সেখান থেকে টোটো বা গাড়ি ভাড়া করে কাছাকাছি পলাশ বন ঘুরে দেখা যায়। তবে বনভূমিতে প্লাস্টিক বা আবর্জনা না ফেলার অনুরোধ জানিয়েছেন স্থানীয় প্রশাসন ও বাসিন্দারা। প্রকৃতির এই সাময়িক রূপ উপভোগ করতে হলে তার সংরক্ষণও সমান জরুরি।
সব মিলিয়ে বসন্তের কয়েকটি সপ্তাহ যেন লাল আগুনে মোড়া এক স্বপ্নভূমি। ইতিহাস, প্রকৃতি আর গ্রামীণ আতিথেয়তার মেলবন্ধনে বিষ্ণুপুরের পলাশ বন এখন পর্যটকদের নতুন ঠিকানা। এখনই পরিকল্পনা না করলে, ফুল ঝরে গেলে হয়তো মিস করবেন এই রঙিন ঋতুর সবচেয়ে উজ্জ্বল দৃশ্য।