সকাল থেকেই শুরু হয় উৎসবের প্রস্তুতি। প্রবেশদ্বারে আলপনা, ফুলের সাজ আর গ্রামীণ শিল্পের ছোট ছোট স্টল নজর কাড়ে দর্শকদের। হস্তশিল্প, গয়না, শাড়ি, ডোকরা সামগ্রী থেকে শুরু করে ঘর সাজানোর নানা জিনিসে ভরে ওঠে মেলা প্রাঙ্গণ। স্থানীয় শিল্পীদের হাতে তৈরি সামগ্রী কেনার ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো।
মঞ্চে একের পর এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। ছোটদের নৃত্য পরিবেশনা, কবিতা আবৃত্তি এবং রবীন্দ্রনাথের গানে বসন্ত বরণের আয়োজন মন ছুঁয়ে যায়। অংশগ্রহণকারীদের অনেকেই জানান, ব্যস্ত শহুরে জীবনে এমন আয়োজন মনকে সতেজ করে তোলে।
আয়োজকদের কথায়, উদ্দেশ্য শুধু উৎসব পালন নয়, স্থানীয় প্রতিভাদের মঞ্চ দেওয়া এবং মহিলাদের আত্মনির্ভরতার সুযোগ তৈরি করা। তাই স্টলের অধিকাংশই পরিচালনা করেছেন এলাকার মহিলারা। তাঁদের তৈরি পণ্যই ছিল আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু।
দুপুরের পর আবির খেলায় মেতে ওঠেন সদস্যরা। তবে কৃত্রিম রঙের বদলে ব্যবহার করা হয় ফুলের পাপড়ি ও পরিবেশবান্ধব আবির। নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার দিকেও বিশেষ নজর রাখা হয়।
বসিরহাটের এই বসন্ত উৎসব প্রমাণ করল, বড় আয়োজন না থাকলেও আন্তরিকতাই উৎসবকে প্রাণবন্ত করে তোলে। সোনাঝুরির হাটের মতোই রঙ, সুর আর শিল্পের মেলবন্ধনে একদিনের জন্য বদলে গেল শহরের চেহারা। স্থানীয়দের আশা, আগামী বছর আরও বড় পরিসরে আয়োজন করা হবে।