রঙের আড়ালে প্রাচীন রীতি: হোলিতে আজও চলে বেত্রাঘাত, কোথায় এই অদ্ভুত উৎসব?
হোলি মানেই রঙের উচ্ছ্বাস, আবির-গুলালের রঙিন হাসি আর মিলনের বার্তা। কিন্তু ভারতের এক প্রাচীন মন্দিরে এই দিনেই পালিত হয় এক ভিন্নধর্মী, চমকপ্রদ ঐতিহ্য—যেখানে রঙের পাশাপাশি চলে প্রতীকী বেত্রাঘাতের রীতি। এই অভিনব প্রথার সাক্ষী থাকে রাধা রানি মন্দির, উত্তরপ্রদেশের বারসানায় অবস্থিত ঐতিহাসিক ধর্মস্থান।
এই উৎসবটি মূলত ‘লাঠমার হোলি’ নামে পরিচিত। বিশ্বাস করা হয়, বৃন্দাবনের কৃষ্ণ সখাদের নিয়ে রাধার গ্রাম বারসানায় এসে রাধা ও তাঁর সখীদের রং খেলায় উত্যক্ত করতেন। সেই পৌরাণিক কাহিনিকেই জীবন্ত করে তুলতেই আজও হোলির সময় বারসানায় নারীরা পুরুষদের প্রতীকীভাবে লাঠি দিয়ে আঘাত করেন। পুরুষরা ঢাল নিয়ে সেই আঘাত থেকে নিজেদের রক্ষা করেন। পুরো ঘটনাটি আনন্দ-উৎসবের আবহেই সম্পন্ন হয়, কারও প্রতি বিদ্বেষ নয়—বরং এটি প্রেম ও রসিকতারই এক অনন্য প্রকাশ।
উৎসব উপলক্ষে হাজার হাজার দর্শনার্থী ভিড় জমান বারসানায়। দেশ-বিদেশের পর্যটকরাও এই অভিনব রীতি প্রত্যক্ষ করতে আসেন। নিরাপত্তার জন্য স্থানীয় প্রশাসন বিশেষ ব্যবস্থা নেয়, যাতে উৎসবের আনন্দ অক্ষুণ্ণ থাকে এবং কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রথা কয়েক শতাব্দী পুরোনো এবং ব্রজভূমির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। শুধু রঙ নয়, ইতিহাস ও লোকবিশ্বাসের রঙেও রাঙা এই হোলি তাই আলাদা গুরুত্ব বহন করে।
রঙের উল্লাসের মাঝেই যখন লাঠির শব্দ শোনা যায়, তখন মনে পড়ে—ভারতের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি কতটা বিস্ময়কর! বারসানার এই লাঠমার হোলি তাই শুধু উৎসব নয়, এক জীবন্ত ঐতিহ্যের প্রতিচ্ছবি।