মুখ্য সমাচার :
প্লাস্টিক বর্জন থেকে বৃক্ষরোপণ, ছোট ছোট উদ্যোগেই ফিরতে পারে প্রকৃতির হারানো ভারসাম্য গরমে এসি চালাচ্ছেন? স্প্লিট নাকি উইন্ডো—কোন এসিতে বিস্ফোরণের ঝুঁকি বেশি, জানলে অবাক হবেন

চেয়ার আঁকড়ে নয়, দায়িত্বের সম্মানেই বিদায়! শেষ সাংবাদিক বৈঠকে আবেগঘন ফিরহাদ

কলকাতা: দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের ইঙ্গিত মিলল কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিমের শেষ সাংবাদিক বৈঠকে। প্রশাসনিক দায়িত্ব, রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং নগর উন্নয়নের নানা প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি জানিয়ে দিলেন, কোনও পদই চিরস্থায়ী নয়। দায়িত্ব পালনই সবচেয়ে বড় বিষয়, চেয়ার আঁকড়ে বসে থাকার মানসিকতায় তিনি বিশ্বাসী নন বলেই স্পষ্ট বার্তা দেন এই বর্ষীয়ান নেতা। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ফিরহাদ বলেন, ক্ষমতা বা পদ মানুষের ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়, সময় এলে নতুন নেতৃত্বের জন্য জায়গা ছেড়ে দেওয়াই গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির অংশ। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরেই রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। বৈঠকে একাধিকবার আবেগপ্রবণ হয়ে পড়তে দেখা যায় তাঁকে। কলকাতার নাগরিক পরিষেবা, রাস্তা সংস্কার, নিকাশি ব্যবস্থা, পার্ক ও স্বাস্থ্য পরিকাঠামো উন্নয়নের নানা প্রকল্পের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে বহু চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়েছে। কখনও সমালোচনা, কখনও প্রশংসা—সবকিছুকেই সমানভাবে গ্রহণ করেছেন। তবে শহরের মানুষের জন্য কাজ করার সুযোগ পাওয়াটাই তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। নিজেকে ‘নিধিরাম সর্দার’ বলেও রসিকতা করেন ফিরহাদ। তিনি জানান, প্রশাসনিক ব্যবস্থায় কোনও ব্যক্তি অপরিহার্য নন। একজন চলে গেলে অন্য কেউ দায়িত্ব নেবেন, এটাই স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। তাই পদ হারানোর ভয় বা চেয়ার ধরে রাখার মানসিকতা তাঁর নেই। বরং নতুন প্রজন্মের নেতৃত্ব উঠে আসুক, নতুন চিন্তাভাবনা শহরের উন্নয়নে কাজে লাগুক—সেই প্রত্যাশাই ব্যক্ত করেন তিনি।
Pressman
05 June, 2026
ফিরহাদের এই বক্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক জল্পনাও শুরু হয়েছে। বিরোধীরা মনে করছে, এটি ভবিষ্যতের কোনও বড় সাংগঠনিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত হতে পারে। যদিও শাসকদলের তরফে দাবি করা হয়েছে, এটি শুধুমাত্র দায়িত্ব হস্তান্তর এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ নিয়ে তাঁর ব্যক্তিগত মতামত। কোনও রাজনৈতিক সংকট বা মতবিরোধের সঙ্গে এই মন্তব্যের সম্পর্ক নেই।
সাংবাদিক বৈঠকের শেষে উপস্থিত সংবাদমাধ্যমকর্মীদের ধন্যবাদ জানিয়ে ফিরহাদ বলেন, জনজীবনের নানা সমস্যা তুলে ধরতে সংবাদমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মেয়র হিসেবে তাঁর যাত্রাপথে সাংবাদিকদের সহযোগিতা ও সমালোচনা দুটোই তাঁকে আরও দায়িত্বশীল হতে সাহায্য করেছে। বিদায়ী মুহূর্তে তাঁর কণ্ঠে ছিল আবেগ, মুখে ছিল হাসি, আর বার্তায় ছিল একটাই কথা—পদ নয়, মানুষের ভালোবাসাই একজন জনপ্রতিনিধির সবচেয়ে বড় সম্পদ। কলকাতার রাজনৈতিক মহলে তাই তাঁর এই ‘শেষ বৈঠক’-এর বক্তব্য এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।
Follow Us ই-পেপার