শমীক ভট্টাচার্য বলেন, ধর্মতলার মতো এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বহু ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও হকার জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। তাঁদের পুনর্বাসনের সুস্পষ্ট পরিকল্পনা ছাড়া উচ্ছেদ অভিযান চালানো হলে হাজার হাজার পরিবার আর্থিক সংকটে পড়বে। তিনি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানান, প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনায় বসে এমন একটি পথ খুঁজে বের করা হোক যাতে শহরের শৃঙ্খলা বজায় থাকে এবং একই সঙ্গে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের স্বার্থও সুরক্ষিত হয়।
তবে এই ইস্যুতে বিজেপির অন্দরেই তৈরি হয়েছে ভিন্ন সুর। দলের একাংশের নেতারা মনে করছেন, ধর্মতলার মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ফুটপাত ও রাস্তা দখলমুক্ত করা জরুরি। তাঁদের বক্তব্য, সাধারণ মানুষের চলাচল, যানজট নিয়ন্ত্রণ এবং নগর পরিকাঠামোর উন্নতির স্বার্থে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত। ফলে শমীকের মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির পাশাপাশি দলের অন্য অংশ প্রশাসনিক কড়াকড়ির পক্ষেও সওয়াল করছে। এই মতপার্থক্য প্রকাশ্যে আসায় রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, হকার উচ্ছেদ প্রশ্নটি শুধুমাত্র প্রশাসনিক বিষয় নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ভোট রাজনীতি এবং শহুরে অর্থনীতির একটি বড় অংশ। ধর্মতলার মতো এলাকায় হাজার হাজার মানুষ প্রতিদিন কেনাকাটা করতে আসেন এবং বহু ক্ষুদ্র ব্যবসা এই অনানুষ্ঠানিক বাজার ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল। ফলে যেকোনও পদক্ষেপ গ্রহণের আগে সরকারকে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পরিস্থিতি সামাল দিতে হবে।
এদিকে হকার সংগঠনগুলিও জানিয়েছে, তারা উন্নয়ন ও শৃঙ্খলার বিরুদ্ধে নয়, কিন্তু পুনর্বাসন ছাড়া উচ্ছেদ কোনওভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। সংগঠনের প্রতিনিধিরা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনার দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে ব্যবসায়ী সংগঠনের একাংশ মনে করছে, দীর্ঘদিন ধরে ফুটপাত দখলের কারণে সাধারণ মানুষ সমস্যার মুখে পড়ছেন এবং এই পরিস্থিতির স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন।
ধর্মতলা ইস্যুতে শমীক ভট্টাচার্যের মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ হওয়ার পদক্ষেপ এবং একই সঙ্গে বিজেপির অভ্যন্তরে প্রকাশ্যে আসা মতভেদ রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এখন নজর রয়েছে রাজ্য সরকারের পরবর্তী অবস্থান এবং হকারদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কী ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় তার ওপর। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই ইস্যুর সমাধান আগামী দিনে কলকাতার নগর পরিকল্পনা এবং রাজ্য রাজনীতির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।