পরিবেশ রক্ষার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উপায় হলো বৃক্ষরোপণ। একটি পূর্ণবয়স্ক গাছ যেমন বাতাস থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করে, তেমনই পরিবেশের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং সরকারি দপ্তর ইতিমধ্যেই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শুরু করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু গাছ লাগালেই হবে না, তার সঠিক পরিচর্যাও নিশ্চিত করতে হবে।
জল সংরক্ষণ নিয়েও এদিন বিশেষ বার্তা দেওয়া হয়েছে। অপ্রয়োজনীয় জল অপচয় রোধ, বৃষ্টির জল সংরক্ষণ এবং জলাশয় রক্ষার মতো উদ্যোগ পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একইসঙ্গে বিদ্যুৎ সাশ্রয়, গণপরিবহন ব্যবহার এবং নবীকরণযোগ্য শক্তির প্রতি ঝোঁক বাড়ানোর পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।
পরিবেশবিদদের দাবি, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ইতিমধ্যেই বিশ্বজুড়ে স্পষ্ট। অস্বাভাবিক তাপপ্রবাহ, বন্যা, খরা এবং ঘূর্ণিঝড়ের সংখ্যা বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে পরিবেশবান্ধব জীবনযাপন আর বিকল্প নয়, বরং প্রয়োজন। বাড়ির ছাদে বা বারান্দায় গাছ লাগানো, আবর্জনা পৃথকভাবে ফেলা, পুনর্ব্যবহারযোগ্য সামগ্রী ব্যবহার এবং স্থানীয় পরিবেশ রক্ষার কাজে অংশ নেওয়ার মতো ছোট ছোট পদক্ষেপও বড় পরিবর্তনের সূচনা করতে পারে।
বিশ্ব পরিবেশ দিবসের মূল বার্তা একটাই—প্রকৃতি আমাদের জীবনের ভিত্তি, তাই তাকে রক্ষা করার দায়িত্বও আমাদের সকলের। আজকের সচেতনতা ও উদ্যোগই আগামী দিনের পৃথিবীকে আরও সবুজ, সুন্দর এবং বাসযোগ্য করে তুলতে পারে। পরিবেশ রক্ষায় প্রত্যেক মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণই হতে পারে প্রকৃতির হারানো সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনার সবচেয়ে বড় শক্তি।