সবচেয়ে বেশি আলোচনা শুরু হয়েছে ইতিহাসের পাঠ্যক্রমে সম্ভাব্য পরিবর্তন নিয়ে। নতুন কাঠামোয় মারাঠা শাসক ছত্রপতি শিবাজির জীবন, প্রশাসনিক দক্ষতা এবং সামরিক কৌশলকে আরও বিস্তৃতভাবে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষাবিদ, রাজনীতিবিদ ও শিক্ষাচিন্তক শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অবদানও নতুন পাঠ্যসূচিতে গুরুত্ব পেতে পারে। তাঁর শিক্ষা, জাতীয়তাবাদ এবং জনজীবনে ভূমিকা নিয়ে পৃথক অধ্যায় সংযোজনের বিষয়েও আলোচনা চলছে।
অন্যদিকে, মোগল সাম্রাজ্যের ইতিহাস পুরোপুরি বাদ না গেলেও তার পরিধি কমানোর সম্ভাবনার খবর সামনে আসতেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক। বিরোধীদের দাবি, ইতিহাসকে নিরপেক্ষভাবে উপস্থাপন না করে আদর্শগত দৃষ্টিভঙ্গি চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে শিক্ষানীতি সমর্থকদের বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে উপেক্ষিত ভারতীয় ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বদের যথাযথ গুরুত্ব দিতেই এই পুনর্বিন্যাস প্রয়োজন।
নতুন শিক্ষানীতির আওতায় মাতৃভাষায় শিক্ষার প্রসার, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা, বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ এবং বহুমুখী মূল্যায়ন পদ্ধতির উপরও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। শিক্ষা দফতরের কর্মকর্তাদের মতে, আগামী প্রজন্মকে আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত করতেই এই আধুনিকীকরণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
ইতিমধ্যেই এই সম্ভাব্য পরিবর্তন নিয়ে শিক্ষক, অভিভাবক এবং ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কেউ এটিকে সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ ইতিহাসের নির্দিষ্ট অধ্যায়গুলির গুরুত্ব কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। ফলে নতুন সিলেবাসের চূড়ান্ত খসড়া প্রকাশের আগেই শিক্ষা ও রাজনীতির অন্দরে এই বিষয়টি অন্যতম আলোচ্য ইস্যু হয়ে উঠেছে।