দেশজুড়ে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই শুক্রবার প্রকাশিত হল পেট্রোল ও ডিজেলের নতুন দাম। গত এক মাসে একাধিক দফায় মূল্যবৃদ্ধির ফলে সাধারণ মানুষের উপর চাপ অনেকটাই বেড়েছে। বিশেষ করে গত কয়েক সপ্তাহে চারবার জ্বালানির দাম বাড়ায় পরিবহণ খরচ থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারেও তার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। তবে শুক্রবার দেশের বিভিন্ন শহরে পেট্রোল ও ডিজেলের দামে বড় কোনও পরিবর্তন দেখা যায়নি বলে জানিয়েছে তেল বিপণন সংস্থাগুলি।
আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামের ওঠানামা অব্যাহত থাকলেও আপাতত দেশের খুচরো জ্বালানি মূল্যে নতুন করে কোনও বৃদ্ধি করা হয়নি। তবুও বাজার বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, বিশ্ববাজারে অশোধিত তেলের দাম উচ্চস্তরে থাকায় ভবিষ্যতে আরও মূল্যবৃদ্ধির সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
শুক্রবার দিল্লিতে পেট্রোলের দাম লিটারপিছু প্রায় ১০২.১২ টাকা এবং ডিজেলের দাম ৯৫.২০ টাকা রয়েছে। কলকাতায় পেট্রোলের দাম ১১৩ টাকারও বেশি এবং ডিজেল প্রায় ১০০ টাকার কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছে। অন্যদিকে মুম্বইয়ে পেট্রোল ১১১ টাকার উপরে এবং চেন্নাইয়ে ১০৭ টাকার আশপাশে বিক্রি হচ্ছে। বিভিন্ন রাজ্যে ভ্যাট ও স্থানীয় করের পার্থক্যের কারণে জ্বালানির দামে তারতম্য দেখা যাচ্ছে।
উল্লেখ্য, মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে দীর্ঘ বিরতির পর প্রথমবার পেট্রোল ও ডিজেলের দাম এক ধাক্কায় প্রায় ৩ টাকা বাড়ানো হয়েছিল। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি এবং অপরিশোধিত তেলের মূল্যবৃদ্ধির জেরে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলির ক্ষতি কমাতেই সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে জানানো হয়েছিল। এরপর ধাপে ধাপে আরও কয়েকবার সংশোধন হওয়ায় গত এক মাসে মোট চারবার দাম বেড়েছে বলে বিভিন্ন রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।
বর্তমানে জ্বালানির দাম অপরিবর্তিত থাকলেও আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতি, পশ্চিম এশিয়ার ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা এবং অপরিশোধিত তেলের সরবরাহের উপর আগামী দিনের মূল্য নির্ভর করবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। ফলে পেট্রোল-ডিজেলের দাম নিয়ে উদ্বেগ এখনও কাটেনি। সাধারণ মানুষের নজর এখন তেল সংস্থাগুলির পরবর্তী মূল্য সংশোধনের দিকেই।