পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে কলেজ চত্বরে তল্লাশি অভিযান চালানো হয়। তল্লাশির সময় কলেজের একটি অংশ থেকে সন্দেহজনক বস্তু উদ্ধার করা হয়। পরে পরীক্ষা করে সেটিকে আগ্নেয়াস্ত্র বলে শনাক্ত করা হয়। অস্ত্র উদ্ধারের খবর সামনে আসতেই কলেজ চত্বরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরাও। গোটা এলাকা ঘিরে রেখে শুরু হয় প্রাথমিক তদন্ত। অস্ত্রটি কী উদ্দেশ্যে সেখানে রাখা হয়েছিল এবং কতদিন ধরে সেটি ওই স্থানে ছিল, তা জানার চেষ্টা চালাচ্ছেন তদন্তকারীরা।
ঘটনার পর থেকেই কলেজের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কীভাবে আগ্নেয়াস্ত্র ঢুকল, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বহু অভিভাবক। কলেজে নিয়মিত নিরাপত্তা তল্লাশি এবং নজরদারি আরও জোরদার করার দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে। অনেকের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ বাড়ছে, ফলে এই ধরনের ঘটনা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
তদন্তের স্বার্থে কলেজের বিভিন্ন অংশে তল্লাশি চালানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। পাশাপাশি কলেজে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। সাম্প্রতিক সময়ে কলেজে কারা যাতায়াত করেছেন, কোনও সন্দেহজনক ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর উপস্থিতি ছিল কি না, সেই বিষয়েও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। কলেজের নিরাপত্তারক্ষী, কর্মচারী এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার সূত্র খোঁজার চেষ্টা করছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রের খবর, উদ্ধার হওয়া অস্ত্রটি ফরেন্সিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে। অস্ত্রটি কার্যক্ষম ছিল কি না, আগে কোনও অপরাধমূলক কাজে ব্যবহার করা হয়েছিল কি না এবং এর মালিক কে, সেই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে বিশেষজ্ঞদের সাহায্য নেওয়া হবে। একই সঙ্গে অস্ত্রটির উৎস এবং সরবরাহের পথ সম্পর্কেও তদন্ত চলছে। তদন্তকারীদের মতে, অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এর সঙ্গে বৃহত্তর কোনও অপরাধচক্রের যোগ রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। তবে একাধিক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে এবং প্রয়োজন হলে আরও কয়েকজনকে ডেকে পাঠানো হতে পারে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। তদন্তের স্বার্থে অনেক তথ্য এখনও প্রকাশ করা হচ্ছে না। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সুরেন্দ্রনাথ কলেজে অস্ত্র উদ্ধারের এই ঘটনায় শহরজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা ও ছাত্রছাত্রীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতে আরও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা সামনে এনে দিয়েছে এই ঘটনা। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের অগ্রগতির উপর ভিত্তি করে পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে এবং দ্রুত ঘটনার পূর্ণ সত্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা চলছে।