দীর্ঘ প্রায় তিন দশক ধরে ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে এক অনন্য নজির তৈরি করে রেখেছিল Dilwale Dulhania Le Jayenge। মুম্বইয়ের আইকনিক প্রেক্ষাগৃহে টানা চলা এই ছবির শো যেন শুধু একটি সিনেমা নয়, ছিল এক আবেগ, এক ঐতিহ্য। কিন্তু এবার সেই দীর্ঘদিনের দখলদারিত্বে ধাক্কা দিতে হাজির হয়েছে নতুন প্রজন্মের মেগা বাজেট ছবি Dhurandhar 2। মুক্তির আগেই দর্শকদের উন্মাদনায় ভাসছে এই ছবি, আর সেই চাহিদা সামাল দিতে প্রেক্ষাগৃহ কর্তৃপক্ষকে একের পর এক অতিরিক্ত শো যোগ করতে হচ্ছে—এমনকি মাঝরাতেও চলছে হাউসফুল প্রদর্শনী।
ইন্ডাস্ট্রি সূত্রে খবর, অগ্রিম টিকিট বিক্রির নিরিখে ইতিমধ্যেই একাধিক রেকর্ড ছুঁয়ে ফেলেছে ‘ধুরন্ধর ২’। মাল্টিপ্লেক্স থেকে সিঙ্গল স্ক্রিন—সব জায়গাতেই একই ছবি, টিকিট কাউন্টারের সামনে লম্বা লাইন, অনলাইনে বুকিং খুলতেই মুহূর্তে সোল্ড আউট। অ্যাকশন, থ্রিল আর ভিএফএক্স-এ ভরপুর এই ছবির ট্রেলার প্রকাশের পর থেকেই দর্শকদের মধ্যে তৈরি হয় তীব্র কৌতূহল, যা এখন রূপ নিয়েছে পূর্ণমাত্রার উন্মাদনায়। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ছবিটি ঘিরে আগ্রহ চোখে পড়ার মতো।
অন্যদিকে, সিনেমাপ্রেমীদের একাংশের মনে অবশ্য নস্টালজিয়ার সুরও বাজছে। Dilwale Dulhania Le Jayenge-এর মতো একটি কালজয়ী ছবির জায়গা অন্য কোনও ছবি নিতে পারে কি না, তা নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক। অনেকেই মনে করছেন, ‘ডিডিএলজে’ শুধু একটি সিনেমা নয়, এটি ভারতীয় পপ কালচারের এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে একই সঙ্গে এ কথাও মানছেন যে সময়ের সঙ্গে দর্শকদের রুচি বদলাচ্ছে, আর সেই পরিবর্তনের প্রতিফলনই ‘ধুরন্ধর ২’-এর বিপুল সাফল্য।
প্রেক্ষাগৃহ মালিকদের মতে, এমন দৃশ্য শেষ কবে দেখা গিয়েছে তা মনে করা কঠিন। মাঝরাতের শোতেও দর্শকদের ভিড়, সিটি-তালি আর উচ্ছ্বাসে মুখরিত হল—সব মিলিয়ে যেন উৎসবের আবহ। অনেক জায়গায় নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে দর্শকদের ভিড় সামলাতে। ছবির মুক্তির প্রথম সপ্তাহেই বক্স অফিসে বিশাল অঙ্ক ছুঁতে পারে বলেই আশাবাদী নির্মাতারা।
সব মিলিয়ে, ‘ধুরন্ধর ২’ শুধু একটি ছবি নয়, এটি যেন নতুন প্রজন্মের সিনেমা দেখার অভিজ্ঞতার প্রতীক হয়ে উঠছে। আর সেই ঝড়েই কি তবে ধীরে ধীরে ফিকে হয়ে আসছে Dilwale Dulhania Le Jayenge-এর দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য? উত্তর সময়ই দেবে, তবে আপাতত বলিউডে একটাই আলোচনা—‘ধুরন্ধর ২’-এর দাপট কতদূর গড়ায়।