অন্যদিকে ক্ষমতাসীন শিবির এই মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছে। তাদের দাবি, এমন উস্কানিমূলক ভাষা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশকে অশান্ত করে তুলতে পারে এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। শাসকদলের কয়েকজন নেতা বলেছেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে, কিন্তু “যুদ্ধ” শব্দ ব্যবহার করে কর্মীদের উত্তেজিত করা দায়িত্বশীল রাজনীতির পরিচয় নয়। ফলে বিষয়টি ঘিরে দুই পক্ষের মধ্যে নতুন করে শুরু হয়েছে তীব্র বাকযুদ্ধ।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের রাজনীতি বর্তমানে এমন এক সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে যখন প্রতিটি বক্তব্যই বড় প্রভাব ফেলছে। আসন্ন নির্বাচন এবং চলমান রাজনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে বিরোধী ও ক্ষমতাসীন দুই শিবিরই নিজেদের অবস্থান আরও জোরালোভাবে তুলে ধরছে। তারেক রহমানের এই মন্তব্য সেই উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে বলেই মনে করছেন অনেক পর্যবেক্ষক।
তবে বিএনপির নেতারা দাবি করেছেন, তারেক রহমানের বক্তব্যকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। তাঁদের মতে, এখানে “যুদ্ধ” বলতে বোঝানো হয়েছে গণতান্ত্রিক আন্দোলন এবং রাজনৈতিক সংগ্রাম। কর্মীদের মনোবল বাড়াতে এবং সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করতে এমন ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে। তারা বলছেন, এই বক্তব্য কোনওভাবেই সহিংসতার ইঙ্গিত নয়, বরং রাজনৈতিক সংগ্রামের প্রতীকী ভাষা।
এদিকে সামাজিক মাধ্যমেও এই মন্তব্য নিয়ে তুমুল আলোচনা চলছে। কেউ এটিকে আন্দোলনের ডাক হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ বলছেন এটি রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ানোর কৌশল। বিভিন্ন রাজনৈতিক বিশ্লেষকও টেলিভিশন বিতর্কে বিষয়টি নিয়ে মতামত দিচ্ছেন। ফলে একটি মাত্র মন্তব্যই এখন বাংলাদেশের রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।
পরিস্থিতি কোন দিকে গড়াবে, তা এখনই বলা কঠিন। তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ মনে করছেন, এই মন্তব্যকে ঘিরে বিরোধী ও ক্ষমতাসীন শিবিরের মধ্যে রাজনৈতিক সংঘাত ও বাকযুদ্ধ আরও বাড়তে পারে। আগামী দিনে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এর প্রভাব পড়বে কি না, তা নিয়েও এখন জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।