দোলের সকালেই ক্লাব প্রাঙ্গণে জমল সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দাদের ভিড়, আবির খেলায় মেতে ওঠার পাশাপাশি পুজোর থিম, বাজেট, সামাজিক বার্তা ও মণ্ডপ পরিকল্পনা নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা চলে। উদ্যোক্তাদের মতে, বসন্ত মানেই নতুন সূচনা, আর সেই শুভ লগ্নে মায়ের আগমনের প্রস্তুতি শুরু করলে গোটা আয়োজনেই ইতিবাচক শক্তি ছড়িয়ে পড়ে।
এবারের পুজোয় চমক দিতে চাইছে টালা। শোনা যাচ্ছে, পরিবেশবান্ধব উপকরণে মণ্ডপ গড়া ও প্লাস্টিকমুক্ত প্রাঙ্গণ তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় শিল্পী ও কারিগরদের সঙ্গে ইতিমধ্যেই প্রাথমিক বৈঠক সেরে ফেলেছেন কর্তারা। থিমে থাকবে সমকালীন সমাজের এক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা, যা দর্শনার্থীদের ভাবাবে এবং সচেতন করবে—এমনই ইঙ্গিত মিলেছে আয়োজকদের কথায়। পাশাপাশি আলোকসজ্জায় বিশেষ আকর্ষণ রাখার পরিকল্পনাও রয়েছে, যাতে সন্ধ্যা নামতেই পাড়া জুড়ে তৈরি হয় উৎসবের আলাদা আবহ।
দোলের দিনেই ঢাকের শব্দে মুখর হয়ে ওঠে ক্লাব প্রাঙ্গণ। আবিরে রাঙা মুখের মাঝেই বাজতে থাকে আগমণীর সুর—“বাজলো তোমার আলোর বেণু”—যা উপস্থিত সবার মনে এক অন্যরকম আবেগের জন্ম দেয়। প্রবীণদের মতে, আগে অনেক পাড়াতেই দোলের দিন খুঁটি পুজোর প্রথা ছিল, এখন তা কমে গেলেও টালার এই উদ্যোগ সেই পুরনো ঐতিহ্যকেই নতুন করে ফিরিয়ে আনল। তরুণ প্রজন্মও সমান উৎসাহে অংশ নেয়, কেউ ব্যানার সাজায়, কেউ সামাজিক মাধ্যমে প্রচারের দায়িত্ব নেয়, কেউ আবার তহবিল সংগ্রহের পরিকল্পনা করে।
পুলিশ ও প্রশাসনের তরফেও উৎসবমুখর দিনে নজরদারি ছিল কড়া, যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দোল উদ্যাপনের পাশাপাশি পুজোর প্রস্তুতির এই সূচনা এলাকায় ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়েছে। স্থানীয়দের বিশ্বাস, বসন্তের রঙে শুরু হওয়া এই পথচলাই শরতের পূর্ণতায় পৌঁছবে, আর টালার দুর্গাপুজো এ বছরও দর্শনার্থীদের মনে বিশেষ ছাপ রেখে যাবে। বসন্তের আবিরে মেখেই যেন জানিয়ে দেওয়া হল—মা আসছেন, প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে, আর অপেক্ষা এখন কেবল শারদের ঢাকের তালে নতুন করে মাতোয়ারা হওয়ার।