মুখ্য সমাচার :
প্লাস্টিক বর্জন থেকে বৃক্ষরোপণ, ছোট ছোট উদ্যোগেই ফিরতে পারে প্রকৃতির হারানো ভারসাম্য গরমে এসি চালাচ্ছেন? স্প্লিট নাকি উইন্ডো—কোন এসিতে বিস্ফোরণের ঝুঁকি বেশি, জানলে অবাক হবেন

সুরুচি সঙ্ঘে ঢুকে ভাঙচুরের দাবি, উত্তপ্ত দক্ষিণ কলকাতা; তদন্তের দাবিতে সরব স্থানীয়রা

দক্ষিণ কলকাতার অন্যতম পরিচিত দুর্গাপুজো কমিটি সুরুচি সঙ্ঘকে কেন্দ্র করে শুক্রবার তৈরি হল তীব্র উত্তেজনা। বিশ্বাস ব্রাদার্সের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। অভিযোগ, ক্লাব প্রাঙ্গণে জোর করে প্রবেশ করে ভাঙচুর চালানো হয়েছে এবং বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সামগ্রী ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে। ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
Pressman
05 June, 2026
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েকদিন ধরেই একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে মতবিরোধ চলছিল। শুক্রবার সেই বিবাদ চরমে পৌঁছয় বলে দাবি। অভিযোগ, একদল ব্যক্তি আচমকাই সুরুচি সঙ্ঘের চত্বরে ঢুকে পড়ে এবং সেখানে থাকা বিভিন্ন সামগ্রী ভাঙচুর করতে শুরু করে। মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ক্লাবের সদস্যরা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে বচসা আরও বাড়ে বলে অভিযোগ।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ঘটনার সময় এলাকায় চরম বিশৃঙ্খলার পরিবেশ তৈরি হয়। ভাঙচুরের আওয়াজে আশপাশের বাসিন্দারা রাস্তায় বেরিয়ে আসেন। ক্লাবের বিভিন্ন আসবাবপত্র, সাজসজ্জার সরঞ্জাম, বৈদ্যুতিক উপকরণ এবং নথিপত্রেরও ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। যদিও ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে জানা যায়নি।
ঘটনার পর ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয়দের একাংশ। তাঁদের অভিযোগ, এ ধরনের ঘটনা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এলাকার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা একটি প্রতিষ্ঠানের ভিতরে ঢুকে ভাঙচুর চালানোর ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। অনেকেই দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে জোর চর্চা। বিভিন্ন মহলের মতে, বিষয়টি শুধুমাত্র একটি ক্লাবকেন্দ্রিক বিবাদ নয়, এর নেপথ্যে আরও বড় কোনও কারণ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। ঘটনার প্রকৃত সত্য সামনে আনতে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিও উঠেছে।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত এবং ঠিক কী কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহের পাশাপাশি প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ানও নেওয়া হচ্ছে।
অন্যদিকে, বিশ্বাস ব্রাদার্সের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়ে শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক। অভিযোগকারী পক্ষের দাবি, পরিকল্পিতভাবেই এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে। যদিও অভিযুক্তদের তরফে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করা হতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে। ফলে ঘটনার প্রকৃত রূপ জানতে তদন্তের রিপোর্টের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে সবাই।
সুরুচি সঙ্ঘের সঙ্গে যুক্ত সদস্যদের বক্তব্য, এই ধরনের ঘটনায় শুধু একটি ক্লাব নয়, এলাকার সামগ্রিক পরিবেশও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাঁরা প্রশাসনের কাছে দ্রুত পদক্ষেপের আবেদন জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে, তার জন্যও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি তুলেছেন।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে এখন দক্ষিণ কলকাতার রাজনৈতিক, সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা চলছে। তদন্ত কোন দিকে এগোয় এবং অভিযোগের সত্যতা কতটা প্রমাণিত হয়, সেদিকেই নজর রয়েছে সকলের। আপাতত উত্তেজনা থাকলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে খবর। তবে এই ঘটনাকে ঘিরে যে বিতর্ক সহজে থামছে না, তা স্পষ্ট।
Follow Us ই-পেপার