লজ্জা রাখার জায়গা নেই’! ধর্নামঞ্চ থেকে বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ মমতার
রাজ্যের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি ঘিরে ধর্নামঞ্চ থেকেই সরব হলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিনের সভা থেকে তিনি সরাসরি বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান। তাঁর অভিযোগ, দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোকে দুর্বল করার চেষ্টা চলছে এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই প্রশাসন ও বিভিন্ন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে ব্যবহার করা হচ্ছে। বক্তব্য রাখতে গিয়ে মমতা বলেন, “আজ দেশে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তাতে লজ্জা রাখার জায়গা নেই। গণতন্ত্রের নামে যা চলছে, তা আসলে মানুষের অধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা।” তাঁর দাবি, বিরোধী দলগুলিকে নানা ভাবে চাপে রাখা হচ্ছে এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকেই বারবার বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রী এদিন স্পষ্ট ভাষায় নির্বাচন কমিশনের ভূমিকাকেও প্রশ্নের মুখে তোলেন। তাঁর কথায়, “নির্বাচন কমিশনের কাজ হওয়া উচিত নিরপেক্ষভাবে নির্বাচন পরিচালনা করা। কিন্তু আজ মনে হচ্ছে তারা অনেক ক্ষেত্রে নীরব দর্শকের ভূমিকা নিচ্ছে। কোথাও অন্যায় হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার, কিন্তু তা হচ্ছে না।” তিনি আরও বলেন, বাংলার মানুষ গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে এবং কোনও অন্যায় বা চাপিয়ে দেওয়া রাজনীতি তারা মেনে নেবে না।
ধর্নামঞ্চ থেকে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধেও একাধিক অভিযোগ তোলেন তৃণমূল নেত্রী। তাঁর দাবি, কেন্দ্রের বিভিন্ন সংস্থাকে ব্যবহার করে বিরোধী দলগুলিকে ভয় দেখানোর চেষ্টা চলছে। “বিভিন্ন তদন্তকারী সংস্থাকে দিয়ে বিরোধীদের বিরুদ্ধে লাগাতার চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। এটা গণতন্ত্রের জন্য ভালো লক্ষণ নয়,” বলেন তিনি। পাশাপাশি কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি বার্তা দেন, আন্দোলন গণতান্ত্রিক পথেই চালিয়ে যেতে হবে এবং কোনও প্ররোচনায় পা দেওয়া যাবে না।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বলেন, বাংলার মানুষ সবকিছু লক্ষ্য করছে এবং সময় এলে তার জবাব দেবে। তাঁর কথায়, “মানুষকে ভয় দেখিয়ে বা প্রশাসনিক শক্তি ব্যবহার করে কখনও মানুষের মন জেতা যায় না। বাংলার মানুষ মাথা নত করতে জানে না।” ধর্নামঞ্চে উপস্থিত নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে তিনি ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান এবং রাজ্যের উন্নয়নমূলক কাজের কথাও তুলে ধরেন।
এদিনের ধর্না কর্মসূচিতে তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক শীর্ষ নেতা ও কর্মী উপস্থিত ছিলেন। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য চলাকালীন বারবার স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে গোটা মঞ্চ। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে মমতার এই তীব্র বক্তব্য রাজ্যের রাজনৈতিক আবহকে আরও উত্তপ্ত করে তুলতে পারে। যদিও বিজেপির তরফে এই সমস্ত অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করা হয়েছে। তাদের বক্তব্য, রাজনৈতিকভাবে ব্যর্থ হয়ে মুখ্যমন্ত্রী কেন্দ্র ও কমিশনের উপর দোষ চাপানোর চেষ্টা করছেন। তবে ধর্নামঞ্চ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই আক্রমণ যে রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে, তা বলাই বাহুল্য।