অন্যদিকে ইরানের ঘনিষ্ঠ মহল এই মন্তব্যকে ‘উসকানিমূলক’ এবং ‘অযৌক্তিক’ বলে দাবি করেছে। তাদের বক্তব্য, এ ধরনের ভাষা ব্যবহার আসলে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ানোরই চেষ্টা। ইরানের কয়েকজন বিশ্লেষক মনে করছেন, ইজরায়েল আসলে কূটনৈতিক চাপ তৈরির জন্য এই ধরনের বক্তব্য সামনে আনছে, যাতে আন্তর্জাতিক মঞ্চে ইরানের ওপর আরও নিষেধাজ্ঞা বা রাজনৈতিক চাপ তৈরি করা যায়।
মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতির সঙ্গে যুক্ত বিশেষজ্ঞদের মতে, ইজরায়েল ও ইরানের মধ্যে দ্বন্দ্ব নতুন কিছু নয়। গত কয়েক দশক ধরে পরোক্ষ সংঘাত, গুপ্ত অভিযান, সাইবার হামলা এবং সামরিক উত্তেজনার মাধ্যমে দুই দেশ একে অপরের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। বিশেষ করে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং অঞ্চলে তাদের মিত্র গোষ্ঠীগুলিকে সমর্থন দেওয়ার বিষয়টি ইজরায়েলের কাছে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগের কারণ। সেই কারণেই সময় সময় কঠোর ভাষায় সতর্কবার্তা দিতে দেখা যায় ইজরায়েলি নেতৃত্বকে।
তবে সাম্প্রতিক এই মন্তব্যকে অনেকেই আগের তুলনায় আরও কড়া বলে মনে করছেন। কারণ এখানে শুধু রাজনৈতিক নেতৃত্ব নয়, নেতৃত্ব বেছে নেওয়ার প্রক্রিয়ার সঙ্গেও যুক্ত ব্যক্তিদের টার্গেট করার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। কূটনৈতিক মহলের মতে, এই ধরনের মন্তব্য বাস্তবিক সংঘাতের ইঙ্গিত না হলেও রাজনৈতিক চাপ তৈরি করার একটি কৌশল হতে পারে। কিন্তু একই সঙ্গে এটাও আশঙ্কা করা হচ্ছে যে পাল্টা প্রতিক্রিয়া এলে পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে উঠতে পারে।
ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক মহলে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। কয়েকটি পশ্চিমি দেশ পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে বলেও জানা গিয়েছে। কূটনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, এই ধরনের বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে এবং ভবিষ্যতে বৃহত্তর সংঘাতের আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
সব মিলিয়ে ইজরায়েলের এই হুঁশিয়ারি ঘিরে এখন বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের শক্তির সমীকরণ যে ক্রমশ জটিল হচ্ছে, সেই ইঙ্গিতই যেন আবার সামনে এনে দিল এই মন্তব্য। পরিস্থিতি কোন দিকে গড়ায়, তা এখনই বলা কঠিন হলেও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ঘটনাপ্রবাহ আগামী দিনগুলিতে বিশ্ব কূটনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।