এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে, বিকল্প জোগানের পথ কতটা প্রস্তুত? বিশেষজ্ঞদের মতে, গত কয়েক বছরে ভারত রাশিয়া থেকে তেল আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ছাড়মূল্যে রুশ তেল কেনার সুযোগ কাজে লাগিয়েছিল নয়াদিল্লি। বর্তমান অস্থিরতায় সেই পথই কি আবার বড় ভরসা হয়ে উঠতে পারে?
সরকারি সূত্রের দাবি, ভারতের জ্বালানি আমদানির ঝুঁকি কমাতে বহু উৎসভিত্তিক কৌশল নেওয়া হয়েছে। শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, আফ্রিকা, আমেরিকা এবং রাশিয়া—বিভিন্ন দেশ থেকে তেল আনার ব্যবস্থা রয়েছে। পাশাপাশি কৌশলগত পেট্রোলিয়াম মজুতও গড়ে তোলা হয়েছে, যাতে আকস্মিক সঙ্কটে কিছুটা সময় পাওয়া যায়।
তবে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা, পরিবহণ ব্যয় এবং বীমা সংক্রান্ত জটিলতা বড় ফ্যাক্টর হয়ে উঠতে পারে। রাশিয়া থেকে তেল আনতে গেলে ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণও মাথায় রাখতে হবে। ভারত একদিকে শক্তি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চাইছে, অন্যদিকে কূটনৈতিক ভারসাম্যও বজায় রাখতে হচ্ছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, সরবরাহে দীর্ঘমেয়াদি বিঘ্ন ঘটলে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানির দাম বাড়তে পারে, যার প্রভাব পড়বে পরিবহণ, শিল্প এবং নিত্যপণ্যের উপরও। তবে আপাতত সরকার পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে এবং বিকল্প উৎস সক্রিয় রাখার বার্তাই দিচ্ছে।
সব মিলিয়ে জ্বালানি যুদ্ধের আবহে ভারতের সামনে চ্যালেঞ্জ বড় হলেও, বহুমুখী আমদানি নীতি ও কৌশলগত মজুতই হতে পারে বড় ভরসা।