মুখ্য সমাচার :
প্লাস্টিক বর্জন থেকে বৃক্ষরোপণ, ছোট ছোট উদ্যোগেই ফিরতে পারে প্রকৃতির হারানো ভারসাম্য গরমে এসি চালাচ্ছেন? স্প্লিট নাকি উইন্ডো—কোন এসিতে বিস্ফোরণের ঝুঁকি বেশি, জানলে অবাক হবেন

দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান, মৃত অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের ডিএ পাবেন উত্তরাধিকারীরা

রাজ্যের অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলা জটিলতার অবসানে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার। সরকারের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, যেসব অবসরপ্রাপ্ত কর্মী তাঁদের প্রাপ্য বকেয়া ডিএ পাওয়ার আগেই মৃত্যুবরণ করেছেন, তাঁদের নিকট আত্মীয় বা আইনানুগ উত্তরাধিকারীরা সেই অর্থ পাওয়ার অধিকারী হবেন। এই সিদ্ধান্তে রাজ্যের হাজার হাজার পরিবার উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, বহু ক্ষেত্রে অবসরপ্রাপ্ত কর্মীরা জীবদ্দশায় বকেয়া ডিএ দাবি করলেও নানা প্রশাসনিক ও আইনি কারণে সেই অর্থ হাতে পাননি। এর মধ্যে অনেকেই মৃত্যুবরণ করেছেন, ফলে তাঁদের পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে প্রাপ্য অর্থ পাওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন। নতুন নির্দেশিকায় সেই সমস্যার সমাধানের পথ খুলে গেল।
Pressman
03 June, 2026
সরকারি মহলের দাবি, কর্মজীবনে অর্জিত আর্থিক সুবিধা কোনও কর্মীর মৃত্যুর কারণে বাতিল হয়ে যেতে পারে না। সেই কারণেই মৃত অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের পরিবারকে তাঁদের প্রাপ্য অর্থ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলিকে নির্দিষ্ট আবেদনপত্রের সঙ্গে মৃত্যুসনদ, পরিচয়পত্র, উত্তরাধিকার সংক্রান্ত নথি এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হবে। নথিপত্র যাচাইয়ের পর ধাপে ধাপে বকেয়া ডিএ প্রদান করা হবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আবেদন প্রক্রিয়া সহজ ও স্বচ্ছ রাখার বিষয়েও জোর দেওয়া হয়েছে।
কর্মচারী সংগঠনগুলির একাংশ এই সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে স্বাগত জানিয়েছে। তাদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে যে পরিবারগুলি প্রাপ্য অর্থের আশায় দিন গুনছিল, তাদের জন্য এটি একটি বড় স্বস্তির খবর। অনেক পরিবারের আর্থিক পরিস্থিতি অত্যন্ত সংকটজনক হয়ে পড়েছিল। এই বকেয়া অর্থ হাতে পেলে তাঁদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ও পারিবারিক ব্যয় মেটাতে কিছুটা সুবিধা হবে বলে মনে করা হচ্ছে। একই সঙ্গে কর্মচারী সংগঠনগুলি বকেয়া ডিএ সংক্রান্ত অন্যান্য দাবিগুলির দ্রুত নিষ্পত্তির দাবিও জানিয়েছে।

অর্থনীতিবিদদের একাংশের মতে, সরকারের এই সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র একটি আর্থিক পদক্ষেপ নয়, বরং কর্মীদের প্রতি প্রশাসনের নৈতিক দায়বদ্ধতারও প্রতিফলন। কর্মজীবনে একজন কর্মী যে আর্থিক সুবিধার অধিকারী হন, তা তাঁর মৃত্যুর পরেও পরিবারের প্রাপ্য হিসেবে বিবেচিত হওয়া উচিত। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে এই সিদ্ধান্তকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। প্রশাসনিক সূত্রের খবর, দ্রুত আবেদন নিষ্পত্তি এবং অর্থ প্রদানের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলিকে প্রয়োজনীয় নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
রাজ্য সরকারের এই ঘোষণার ফলে বহু মৃত অবসরপ্রাপ্ত কর্মীর পরিবারের দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তার অবসান ঘটতে চলেছে। প্রাপ্য অর্থ পাওয়ার আশা জোরালো হওয়ায় পরিবারগুলির মধ্যে স্বস্তির আবহ তৈরি হয়েছে। দীর্ঘ অপেক্ষার পর অবশেষে বকেয়া ডিএ হাতে পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় এই সিদ্ধান্তকে অনেকেই মানবিক ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।
Follow Us ই-পেপার