নকআউট ম্যাচে সাধারণত দলগুলি অনেক বেশি সতর্ক ও পরিকল্পিত ক্রিকেট খেলে। এই ধরনের ম্যাচে শুরুতেই পরিস্থিতি বুঝে নেওয়া খুব গুরুত্বপূর্ণ। পিচ কেমন, আবহাওয়ার প্রভাব কতটা, সন্ধ্যার দিকে শিশির পড়বে কি না—এই সব বিষয় মাথায় রেখেই সিদ্ধান্ত নিতে হয়। যদি পিচে শুরুতে বোলারদের জন্য বাড়তি সহায়তা থাকে, তাহলে প্রথমে বোলিং নেওয়ার সম্ভাবনাই বেশি থাকে। কারণ নতুন বলে সুইং বা বাউন্স থাকলে প্রতিপক্ষকে কম রানে আটকে রাখা সহজ হতে পারে। সেই ক্ষেত্রে লক্ষ্য তাড়া করার সুযোগ থাকে এবং স্কোর বোর্ডের চাপ কম থাকে। অন্যদিকে পিচ যদি ব্যাটিং সহায়ক হয়, তাহলে অনেক অধিনায়কই প্রথমে ব্যাট করার পক্ষে মত দেন। কারণ নকআউট ম্যাচে বড় রান তুলে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলা একটি কার্যকর কৌশল হিসেবে ধরা হয়।
ভারতের অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব তার আগ্রাসী ব্যাটিং ও আক্রমণাত্মক মানসিকতার জন্য পরিচিত। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে তিনি বরাবরই দ্রুত রান তোলার পক্ষে। তাই টস জিতলে তিনি পরিস্থিতি বুঝে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্তও নিতে পারেন, যাতে বড় স্কোর তুলে ইংল্যান্ডকে চাপের মধ্যে ফেলা যায়। বিশেষ করে যদি পিচ ব্যাটিং সহায়ক হয়, তাহলে ভারতের শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপ সেই সুযোগ কাজে লাগাতে চাইবে। রোহিত, বিরাট বা হার্দিকদের মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটাররা বড় ম্যাচে চাপ সামলাতে অভ্যস্ত, ফলে শুরু থেকেই বড় ইনিংস গড়ার পরিকল্পনা থাকতে পারে দলের।
অন্যদিকে ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি ব্রুকও আধুনিক ক্রিকেটের অন্যতম আক্রমণাত্মক ক্রিকেটার। ইংল্যান্ডের দল সাম্প্রতিক বছরগুলিতে সাহসী ক্রিকেট খেলার জন্য পরিচিত। পরিস্থিতি অনুকূল হলে তারা প্রায়শই রান তাড়া করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। কারণ লক্ষ্য সামনে থাকলে ব্যাটসম্যানরা পরিকল্পনা করে এগোতে পারেন। ব্রুক তাই টস জিতলে প্রথমে বোলিং নিয়ে ভারতের ব্যাটিং শক্তিকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে পারেন। যদি শুরুতেই কয়েকটি উইকেট তুলে নেওয়া যায়, তাহলে বড় ম্যাচে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলা সহজ হয়।
তবে সব কিছুই নির্ভর করবে ম্যাচের দিন পিচ ও আবহাওয়ার উপর। অনেক সময় সন্ধ্যার ম্যাচে শিশির একটি বড় ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়ায়। শিশির পড়লে দ্বিতীয় ইনিংসে বোলারদের বল ধরতে সমস্যা হয়, স্পিনারদেরও কার্যকারিতা কমে যায়। সেই কারণেই অনেক অধিনায়ক টস জিতে প্রথমে বোলিং নেওয়ার দিকে ঝুঁকতে পারেন। আবার দিনের ম্যাচ হলে প্রথমে ব্যাট করাও সুবিধাজনক হতে পারে।
ক্রিকেট ইতিহাসে বহুবার দেখা গেছে, বড় ম্যাচে টস জেতা দলের কৌশলই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। বিশেষ করে সেমিফাইনাল বা ফাইনালের মতো ম্যাচে ছোট ছোট সিদ্ধান্তই বড় পার্থক্য গড়ে দেয়। তাই এবারও হেড-টেলের সেই ক্ষণিকের লড়াইয়ে কে জিতবেন এবং তারপর কী সিদ্ধান্ত নেবেন সূর্যকুমার যাদব বা হ্যারি ব্রুক—সেদিকেই তাকিয়ে থাকবে ক্রিকেট বিশ্ব। কারণ সেই সিদ্ধান্তই হয়তো ঠিক করে দেবে কোন দল ফাইনালের টিকিট পাবে আর কার স্বপ্ন থেমে যাবে সেমিফাইনালের মঞ্চেই।