কলকাতা: গত কয়েকদিন ধরে অস্বস্তিকর গরম ও চরম আর্দ্রতায় নাজেহাল শহরবাসী। সকাল থেকেই তাপমাত্রা তুলনামূলকভাবে স্বাভাবিক থাকলেও বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় ঘাম ও গুমোট আবহাওয়ায় কার্যত হাঁসফাঁস অবস্থা তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাসে মিলেছে বড় স্বস্তির খবর। বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া একটি নিম্নচাপ অক্ষরেখা এবং শক্তিশালী জলীয় বাষ্প প্রবাহের জেরে কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় আবহাওয়ার বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, আজ বিকেল থেকে রাতের মধ্যেই আকাশে মেঘের আনাগোনা বাড়বে এবং বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বিক্ষিপ্ত থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।
আলিপুর আবহাওয়া দফতর সূত্রে খবর, দক্ষিণবঙ্গের উপর দিয়ে সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, নদিয়া এবং মুর্শিদাবাদে বজ্রগর্ভ মেঘ তৈরি হতে পারে। কোথাও কোথাও ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে বলেও সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। ফলে বিকেলের পর থেকে আবহাওয়ার নাটকীয় পরিবর্তন ঘটার সম্ভাবনা প্রবল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিনের প্যাচপ্যাচে গরমের মূল কারণ ছিল বাতাসে অতিরিক্ত আর্দ্রতা এবং পর্যাপ্ত বৃষ্টির অভাব। তবে নতুন করে আবহাওয়া ব্যবস্থার সক্রিয়তায় বৃষ্টি শুরু হলে তাপমাত্রা ২ থেকে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত কমে যেতে পারে। এর ফলে শহরবাসী সাময়িকভাবে হলেও অস্বস্তিকর গরম থেকে কিছুটা স্বস্তি পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। তবে বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রপাতের আশঙ্কা থাকায় খোলা মাঠ, জলাশয় সংলগ্ন এলাকা এবং উঁচু গাছের নিচে আশ্রয় না নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা।
এদিকে সম্ভাব্য দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কথা মাথায় রেখে প্রশাসনকেও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। পুরসভা ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীকে প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে কোথাও জল জমে গেলে বা গাছ ভেঙে পড়ার ঘটনা ঘটলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়। কলকাতার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।
আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, শুধু আজ নয়, আগামী কয়েকদিন ধরেই দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি ও বজ্রঝড়ের সম্ভাবনা থাকবে। ফলে গরমের তীব্রতা কিছুটা কমলেও আকাশ মেঘলা থাকার কারণে আবহাওয়া খামখেয়ালি হয়ে উঠতে পারে। কৃষকদেরও আবহাওয়ার আপডেটের উপর নজর রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে বৃষ্টির হাত ধরে স্বস্তির ইঙ্গিত মিললেও দুর্যোগের আশঙ্কাকে একেবারেই উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। কলকাতাবাসীর নজর এখন আকাশের দিকে—কবে নামবে সেই কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টি, আর কতটা স্বস্তি মিলবে গরমের যন্ত্রণা থেকে।