উচ্চগতিতেও কাঁপল না একফোঁটা জল, পরীক্ষায় বাজিমাত বন্দে ভারত স্লিপার
উচ্চগতিতে ছুটলেও একফোঁটা জলও কাঁপল না—পরীক্ষায় চমক দেখাল বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেন। আধুনিক সাসপেনশন ও উন্নত নকশার দৌলতে গতি, স্থিতি ও যাত্রী স্বাচ্ছন্দ্যের পরীক্ষায় সফল হল এই নতুন প্রজন্মের রেল।
ভারতীয় রেলের আধুনিক যাত্রাপথে আরও এক গর্বের অধ্যায় যুক্ত হল বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনের সাফল্যের মাধ্যমে। সম্প্রতি উচ্চগতির বিশেষ পরীক্ষায় ঘণ্টায় ১৮০ কিলোমিটার বেগে ছুটেও ট্রেনের ভিতরে রাখা এক গ্লাস জল পর্যন্ত নড়েনি। এই দৃশ্যই চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেন কতটা স্থিতিশীল ও আরামদায়ক হতে চলেছে। পরীক্ষার এই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেন রেলমন্ত্রী, যা প্রকাশ্যে আসতেই দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায় এবং সাধারণ মানুষের পাশাপাশি বিশেষজ্ঞ মহলেও প্রশংসা কুড়োয়।
রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনের নকশা ও প্রযুক্তিতে একাধিক আধুনিক পরিবর্তন আনা হয়েছে। উন্নত সাসপেনশন সিস্টেম, বিশেষভাবে ডিজাইন করা বগি, আধুনিক হুইল ও ট্র্যাকের সমন্বয়ের ফলেই এত উচ্চগতিতেও কম্পন প্রায় শূন্যে নামিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। বিশেষ করে রাতের দীর্ঘ যাত্রার কথা মাথায় রেখেই এই স্লিপার সংস্করণ তৈরি করা হয়েছে, যাতে যাত্রীরা নিরবচ্ছিন্ন আরাম, নিরাপদ ঘুম এবং মসৃণ সফরের অভিজ্ঞতা পান। পরীক্ষার সময় ট্রেনের ব্রেকিং সিস্টেম, ভারসাম্য এবং শব্দ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাও খতিয়ে দেখা হয়েছে বলে রেল আধিকারিকরা জানিয়েছেন।
রেলমন্ত্রী তাঁর পোস্টে উল্লেখ করেন, ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগের সাফল্যই বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেন। দেশীয় প্রযুক্তি ও ভারতীয় ইঞ্জিনিয়ারদের দক্ষতায় তৈরি এই ট্রেন ভবিষ্যতে রেলের চেহারাই বদলে দিতে চলেছে বলে তাঁর দাবি। রেল দপ্তর সূত্রে আরও জানা যাচ্ছে, সমস্ত নিরাপত্তা ও মান যাচাই শেষ হলে ধাপে ধাপে এই ট্রেন যাত্রী পরিষেবায় আনা হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বন্দে ভারত স্লিপার চালু হলে দীর্ঘ দূরত্বের যাত্রায় সময় যেমন কমবে, তেমনই আরামের দিক থেকেও এটি বিমান পরিষেবার সঙ্গে সরাসরি প্রতিযোগিতায় নামবে, যা শেষ পর্যন্ত সাধারণ যাত্রীদের জন্য বড় সুখবর হতে পারে।